রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: আগেও বহিষ্কৃত হয়ে পদ পেয়েছিলেন ছাত্রদল নেতারা, এবার স্থায়ী বহিষ্কার

৬-১০-২০২৬৩০
4
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: আগেও বহিষ্কৃত হয়ে পদ পেয়েছিলেন ছাত্রদল নেতারা, এবার স্থায়ী বহিষ্কার
"রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আন্দোলনের প্রতীকী ছবি।"

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলাম এর আগেও বিভিন্ন অপরাধ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। আর পদ ফিরে পাওয়ার পর থেকেই তাঁরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, যার সর্বশেষ পরিণতি গত রোববারের সাংবাদিক পেটানোর ঘটনা।

এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশে আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলামসহ তিনজনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস এবং মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে আহসান হাবীব এবং হাসিবুল ইসলামকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের জুনেও এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে আটকে মারধর, চাঁদা দাবি ও জোর করে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত করার চেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হাসিবুলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী আবু হাসানকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ এবং গত ১৫ আগস্ট মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটার মতো গুরুতর তথ্যও রয়েছে।

এত সব অপরাধের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কতিপয় নেতার আশীর্বাদে তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে গত বছরের আগস্টে ঘোষিত রাবি শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আহসান হাবীবকে সহসভাপতি এবং হাসিবুল ইসলামকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

রোববারের সেই নৃশংস হামলা ও সিসিটিভি রহস্য

গত রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী। সাংবাদিকরা সেই দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া ৭ জন চিহ্নিত হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলাম ছাড়াও রয়েছেন শরিফুল ইসলাম, তাকবীর আহমেদ ইমন, শাহরিয়ার আলম, সৈয়দ সাহজারুল ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী থেকে ছাত্রদলে ভেড়া বিশাল চক্রবর্তী।

এদিকে হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব বা মুছে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের দাবি, মূল আলামত নষ্ট করতেই এই কাজ করা হয়েছে। যদিও হলের তৎকালীন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন, সংস্কারকাজের জন্য সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেয় এবং একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার পর দোষীদের বিচার দাবিতে আন্দোলন জোরালো করা হয়েছে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।