রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

রূপগঞ্জের তারাব ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য: নায়েব সাদ্দামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

৩-১০-২০২৬৫০
4
রূপগঞ্জের তারাব ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য: নায়েব সাদ্দামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
"তারাব পৌর ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের ভিড় এবং ফাইলপত্র নিয়ে বহিরাগতদের উপস্থিতির প্রতীকী ছবি।"

এম শাহীন আলম:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌর ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের চরম হয়রানি, দালালদের অবাধ দৌরাত্ম্য, সরকারি নথিপত্রে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অফিসটির নায়েব সাদ্দাম হোসেন। তাঁর যোগদানের পর থেকেই অফিসটিতে একটি সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিন চিত্র: রেকর্ড রুমেও বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত

সম্প্রতি তারাব পৌর ভূমি অফিসে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন কক্ষে একাধিক বহিরাগত ব্যক্তি অবস্থান করছেন এবং দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন। অফিসের প্রবেশমুখের টেবিল থেকে শুরু করে সিঁড়ি এবং নায়েব ও সহকারী নায়েবের কক্ষ পর্যন্ত বহিরাগতদের এই উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গুরুত্বপূর্ণ ভূমি রেকর্ড ও গোপন নথিপত্র সংরক্ষিত থাকার কথা যে রেকর্ড রুমে, সেখানেও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশাধিকার রয়েছে। অনুসন্ধানে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে রেকর্ড রুমে চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করতে এবং অন্যান্যের ফাইলপত্র নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এতে সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

নামজারিতে অতিরিক্ত ফি ও দালালদের সিন্ডিকেট

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, নামজারি, জমির খারিজ বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মতো সেবাগুলোর জন্য সরাসরি কাউন্টারে গেলে নানা অজুহাতে তাদের ঘোরানো হয়। কখনো কাগজপত্রের ত্রুটি, কখনো তদন্তের কথা বলে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রাখা হয়। অথচ একই কাজ দালালদের মাধ্যমে করালে মুহূর্তেই তা সমাধান হয়ে যায়।

দালালদের মাধ্যমে কাজ করালে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে জমির জটিলতা ভেদে আরও বেশি অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থের একটি অংশ অফিসের বিভিন্ন স্তরে ভাগবাটোয়ারা হয়। এমনকি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও নায়েব সাদ্দাম হোসেনের প্রশ্রয়ে এবং তথাকথিত ‘অফিস খরচের’ নামে এই ঘুষ বাণিজ্য ও দালালদের তৎপরতা থামেনি, বরং তা আরও বেপরোয়া রূপ নিয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য ও নায়েবের সাফাই

এ বিষয়ে রূপগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ মারজানুর রহমানকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও প্রমাণসহ বিষয়টি জানানো হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি দালালদের বের করে দেওয়ার কথা জানান। তবে পরবর্তীতেও ভূমি অফিসে দালালদের নিয়মিত উপস্থিতি অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে নায়েব সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর অফিসের সব অনিয়ম অস্বীকার করেন এবং অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখতে চান।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।