রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
sarkar

চুলা জ্বলছে না দেশে! সংকট মেটাতে মিয়ানমার থেকে সরাসরি পাইপলাইনে গ্যাস আনার তোড়জোড়

৪-০৮-২০২৬৬০
4
চুলা জ্বলছে না দেশে! সংকট মেটাতে মিয়ানমার থেকে সরাসরি পাইপলাইনে গ্যাস আনার তোড়জোড়
"মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইনের ভৌগোলিক গতিপথ এবং রাখাইনের বর্তমান রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ মানচিত্র।"

দেশে দিন দিন ঘনীভূত হতে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র ঘাটতি মোকাবিলায় এবার প্রতিবেশীদের দিকে নজর দিচ্ছে সরকার। মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আনার নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। গত রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের সাক্ষাতে এই প্রস্তাবের কথা জানানো হয়। মিয়ানমার এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে এলএনজি সরবরাহের বিষয়েও আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে।

তিন দশকের ব্যাকগ্রাউন্ড ও বর্তমান পরিস্থিতি

মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির আলোচনা প্রায় তিন দশকের পুরোনো। ১৯৯৭ সালে প্রথম প্রস্তাব এবং ২০০৪-০৫ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হলেও ভারতের সাথে ট্রানজিট শর্তাবলির মিল না হওয়ায় তৎকালীন উদ্যোগটি ভেস্তে যায়।

বর্তমানে দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। সম্প্রতি গত ২১ জুলাই একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে বিদ্যুৎ, শিল্পখাত এবং গৃহস্থালিতে হাহাকার তৈরি হওয়ায় তাৎক্ষণিক বিকল্প অনুসন্ধানে নেমেছে সরকার।

মিয়ানমারে গ্যাসের মজুত ও উৎপাদনের বাস্তবতা

বিশ্বব্যাংক ও আইইএ-এর তথ্যমতে, মিয়ানমারে ২২ লাখ কোটি ঘনফুট প্রমাণিত গ্যাসের বিশাল মজুত রয়েছে এবং তারা দিনে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে। আন্তর্জাতিক হিসাবে যা দিয়ে আরও ৪০ বছর চলা সম্ভব। দেশটি বর্তমানে উৎপাদিত গ্যাসের ৫০ শতাংশ থাইল্যান্ড ও ২৫ শতাংশ চীনে রপ্তানি করে। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি জায়ান্টরা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করায় দেশটির সার্বিক গ্যাস উৎপাদন অনেকটাই কমে এসেছে।

প্রধান বাধা: নিরাপত্তা, সীমান্ত ও রোহিঙ্গা কূটনীতি

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের গ্যাস বাংলাদেশের চলতি সংকট কাটানোর কোনো ‘তাত্ক্ষণিক সমাধান’ হতে পারে না। এর পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ:

১. নিরাপত্তা ও সীমানা নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকা বর্তমানে মিয়ানমার জান্তার বদলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন 'আরাকান আর্মি'র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চায়ন ছাড়া স্থল পাইপলাইন নির্মাণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২. এলএনজি অবকাঠামোর ঘাটতি: মিয়ানমার থেকে এলএনজি হিসেবে গ্যাস আনতে নতুন পাইপলাইন না লাগলেও দেশটির তরলীকরণের অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও উচ্চমূল্য বড় অর্থনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করে। ৩. রোহিঙ্গা সংকট ও কূটনৈতিক অবস্থান: দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতি-বিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজের মতে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যখন বিচার প্রক্রিয়া চলছে, তখন এই চুক্তি মিয়ানমার জান্তাকে বৈধতা দিতে পারে এবং বাংলাদেশের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, গ্যাসের মূল্য, সঠিক পথ নির্ধারণ ও লাভ-ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) ছাড়া পাইপলাইন প্রকল্প শুরু করা মোটেও বাস্তবসম্মত হবে না।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।