চীনের কৃত্রিম সূর্য প্রকল্প ৫৮২ টনের রেকর্ড সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন চুম্বকের সফল পরীক্ষা
Glimpses of the Tigers' win.

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক:
বিশ্বকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শক্তির বিকল্প দেখাতে ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির মহা-প্রকল্পে আরও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে চীন। দেশটির ‘চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস’-এর আওতাধীন ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিকস বিশ্বের সবচেয়ে বড়—৫৮২ টন ওজনের এবং ২১ মিটার দীর্ঘ ‘ডি’ (D) আকৃতির একটি অতিপরিবাহী বা সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন চুম্বকের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। বেইজিংয়ের তৈরি এই অতিকায় সুপার-ম্যাগনেট আন্তর্জাতিক থার্মোনিউক্লিয়ার এক্সপেরিমেন্টাল রিঅ্যাক্টরের (ITER) তৈরি চুম্বকের চেয়েও ১.৩ গুণ বড় এবং এর শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষমতা প্রায় তিন গুণ বেশি!
কেন বলা হচ্ছে ‘কৃত্রিম সূর্য’?
সংকেত ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের এই জটিল প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ দেশীয় কাঁচামাল ও নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহার করেছে বেইজিং। এটি মূলত ম্যাগনেটিক কনফাইনমেন্ট প্রক্রিয়ায় তৈরি, যা ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত প্লাজমাকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখতে সক্ষম। উল্লেখ্য, আসল সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা যেখানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে চীনের তৈরি এই ‘কৃত্রিম সূর্যের’ তাপমাত্রা হবে আসল সূর্যের কেন্দ্রের প্রায় ৭ গুণ! ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফিউশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক উচ্চাভিলাষী মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছে বেইজিং।
১,৬৬ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড ও মহাকাশ অভিযানের নতুন দুয়ার
এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় আনহুই প্রদেশের হেফেই শহরে অবস্থিত ‘এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাডভান্সড সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ (EAST/ইস্ট) টানা ১ হাজার ৬৬ সেকেন্ড ধরে সফলভাবে প্লাজমা নিয়ন্ত্রণ করে বৈশ্বিক নতুন রেকর্ড গড়েছিল (যা ২০২৩ সালের ৪০৩ সেকেন্ডের রেকর্ডকে ভেঙে দেয়)। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের মতো ফিউশন বিক্রিয়া ঘটিয়ে একবার সফল শক্তি উৎপাদন করা গেলে মানুষ এমন এক শক্তি পাবে যা পরিবেশের ক্ষতি না করেই অফুরন্ত বিদ্যুৎ যোগাবে। পাশাপাশি সৌরজগতের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের পথও মসৃণ করবে এই প্রযুক্তি।
'যুক্তরাষ্ট্র অন্ধকার যুগে, চীনই বিজয়ী': তোলপাড় নেটদুনিয়া
চুম্বকটির পরীক্ষার ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমী ও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে চীনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রশংসা করে বলছেন, “চীন যে গতিতে জ্বালানি খাতে বিপ্লব আনছে, তারা ইতিমধ্যেই এআই ও ভবিষ্যত প্রযুক্তির লড়াইয়ে বিজয়ী হয়ে গেছে।” উল্টোদিকে কিছু বিশ্লেষক পশ্চিমা বিশ্ব এবং মার্কিন প্রযুক্তির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সত্তোর দশকের পর থেকে পরমাণু ফিউশন প্রযুক্তির যে বৈশ্বিক স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন, চীন সেখানে একক আধিপত্য বজায় রেখে বিশ্বের জ্বালানি রাজধানী হওয়ার স্পষ্ট সংকেত দিয়ে রাখল।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।