১ হাজার ডলারের ড্রোনে ৬০ লাখ ডলারের মিসাইল ধ্বংস! ইরানে ৪০ দিন বোমাবর্ষণে খালি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন, ঝুঁকিতে তাইওয়ান
Video report.

১. ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও বিশাল অর্থনৈতিক ব্যয়
অভিযানের পরিধি: ৮ এপ্রিল ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও সম্প্রতি হামলা স্থগিত হওয়ার আগপর্যন্ত ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বিপরীতে ইরানের ছোড়া ১,৭০০-এর বেশি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হয়েছে।
বিপুল খরচ: মার্কিন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩,৭৫০ কোটি (৩৭.৫ বিলিয়ন) ডলার, যার সিংহভাগই গেছে মূল্যবান গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে।
২. পেন্টাগনের জরুরি ঘাটতি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান
অস্ত্রের ঘাটতি: ইউএস সিএসআইএস (CSIS)-এর হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে ১ হাজারের বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যা ২০৩১ সালের আগে আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব নয়। এছাড়া, যুদ্ধপূর্ব ২,৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১,৪৩০টি এবং ৩৬০টি থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের মধ্যে ২৯০টিই মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে ফেলেছে।
৮৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি বাজেট: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনেট কমিটিকে জানিয়েছেন, সামরিক সরঞ্জামের ‘জরুরি ঘাটতি’ মেটাতে পেন্টাগনের আরও ৮,৭০০ কোটি (৮৭ বিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন।
ট্রাম্পের দাবি: যদিও এনওয়াইটি-র মতে ট্রাম্প অস্ত্রাগার খালি হওয়ার কারণেই হামলা বন্ধ করেছেন, তবে ট্রাম্প দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘাটতির কথা অস্বীকার করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গোলাবারুদ রয়েছে।
ক) তাইওয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঝুঁকি (‘ডেভিডসন উইন্ডো’):
পেন্টাগন আশঙ্কায় আছে যে সামরিক বিশ্লেষকদের সংজ্ঞায়িত ২০২৭ সালের 'ডেভিডসন সময়সীমার' মধ্যে যদি চীন তাইওয়ানে আক্রমণ করে, তবে এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত অস্ত্রাগার না থাকায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী চরম অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। চীন ইতিমধ্যেই দূরপাল্লার হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল ও ড্রোন-ঝাঁক (Drone swarm) প্রযুক্তিতে ব্যাপক এগিয়ে গেছে।
খ) ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর প্রভাব:
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বছরে ৭০০-৮০০টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র বানায়, অথচ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ৮০৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ফেলেছে। ১ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ঠেকাতে মার্কিন বাহিনী ৬০ লাখ ডলারের মিসাইল খরচ করায় ইউক্রেন এখন প্যাট্রিয়ট সংকটে ভুগছে।
গ) ইরানের বর্তমান শোচনীয় অবস্থান:
মার্কিন বাহিনীর অস্ত্র কমলেও স্বস্তির বিষয় হলো—মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে তেহরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত মার্কিন বাহিনীর চেয়েও শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে।
৪. দীর্ঘমেয়াদি উত্তরণের পথ
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন কর্নেল মার্ক কানসিয়ান জানান, আজ অর্থ বরাদ্দ দিলেও একটি মিসাইল হাতে পেতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লেগে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন জাপানি ও জার্মান মডেল অনুসরণ করে ইউক্রেন ও ইউরোপকে নিজেদের দেশে অস্ত্র বানানোর প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ কম খরচে বিপুল পরিমাণ টেকসই ড্রোন-প্রতিরোধী প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোযোগ দিচ্ছে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।