রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

বাঞ্ছারামপুর দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত, অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার

৪-১০-২০২৬৮০
4
বাঞ্ছারামপুর দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত, অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার
"সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দেশীয় অস্ত্র ও পুলিশের তৎপরতা।"

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জুয়েল রানা (১৯) নামের এক যুবক টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দু'জন গুলিবিদ্ধ রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের নেপথ্য ও হতাহতের বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের শেবু সরকার বাড়ি এবং আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ রয়েছে। এর জেরে গত ৩০ জুন দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর শেবু সরকার বাড়ির লোকজন এলাকাছাড়া ছিল। গত রবিবার গভীর রাতে তাঁরা বহিরাগত লোকজনকে নিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। পরে সোমবার ভোর চারটার দিকে শেবু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে জুয়েল রানা মারা যান। নিহত জুয়েল এক পক্ষের দাবি অনুযায়ী আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। এছাড়া সংঘর্ষে ফারুক মিয়া ও সোহেল মিয়া গুলিবিদ্ধ হন এবং শাহ পরান, খোকন মিয়া ও ফজর আলী ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন। পাশাপাশি বকুল মিয়া, আশরাফুল ইসলাম, হাবি মিয়া, সুমন মিয়া, আলমগীর হোসেন ও স্বাধীনসহ বেশ কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হন। গুরুতর আহত স্বাধীনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মন জানান, নিহত জুয়েল রানার পেটে ও পায়ে তিনটি টেঁটা বিদ্ধ হয়েছিল।

আজগর আলী বাড়ির ইসমাইল মিয়ার অভিযোগ, মুক্তারের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ডাকাতের কায়দায় ককটেল ও অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে গ্রামবাসী তাদের প্রতিহত করে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের মুক্তার হোসেন বহিরাগতদের নিয়ে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাঁরা বাড়ি ফেরার সময় প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং এই সংঘর্ষে তাঁদের বাড়িতে বেড়াতে আসা আত্মীয় জুয়েল নিহত হন।

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার করে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।